Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

বল্লী ইউনিয়নের ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবর্তী বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের নিকটে অবস্থিত সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। এই উপজেলার ১২ নং বল্লী ইউনিয়ন অবস্থিত। সাতক্ষীরা কুল ও সন্দেশ এর জন্য বহু পূর্ব থেকে প্রসিদ্ধ। সাতক্ষীরা এলাকা প্রাচীন জনপদ হিসাবে চিহ্নিত ছিল, যেখানে ব্রিটিশ জমিদার তথা বহু সম্মানী ব্যক্তিগণ বসবাস করতেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২নং বল্লী ইউনিয়ন একটি জনবহুল ইউনিয়ন যার উত্তরে কলারোয়া থানার জালালাবাদ ইউনিয়ন, দক্ষিণে ও পূর্বে লাবসা ইউনিয়ন, পশ্চিমে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন। ১২নং বল্লী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী বেত্রাবতী নদী প্রবাহিত।

নামকরণ: 
অনেক অনেক দিন আগের কথা, এই গ্রামে কোন এক সময় খুব বেশি পরিমাণ বল্লী পোকার উপদ্রপ ছিল যার কারণে সেই সময় সকল মানুষের মুখে মুখে ঐ বল্লী পোকার নাম থাকত আর এই ভাবে কালের পরিক্রমায় এই গ্রামের নামও রাখা হয়েছে বল্লী গ্রাম। বল্লী গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদটি প্রতিষ্ঠিত, এ কারণে ইউনিয়নের নাম বল্লী ইউনিয়ন।

আয়তন: 
বল্লী ইউনিয়নের আয়তন ১২ কিঃ মিঃ। এখানে রয়েছে ১৭টি গ্রাম, অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় যোগাযোগ অবকাঠামোর দিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। সামগ্রিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদের বিবেচনায় বল্লী একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জলাবদ্ধতা এলাকায় সার্বিক উন্নয়নের জন্য হুমকি স্বরূপ।

জনসংখ্যা : 
ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ২১৬৭০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১০৮৩০ জন ও নারী ১০৮৪০ জন। জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা কৃষি ও মাছ ধরা। বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিন মজুরিতে অনেকে নিয়োজিত রয়েছেন। মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ৮০% হিন্দু ১৫% ও অন্যান্য ৫%। এখানকার মানুষের মধ্যে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান।

শিক্ষা: 
সামগ্রিক ভাবে ইউনিয়নের স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৭৫%। এখানে রয়েছে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮টি সরকারি প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল ৩টি, মাদ্রাসার সংখ্যা ১টি। এখানকার মানুষ সহজেই প্রাথমিক শিক্ষার সুযোজ ভোগ করলেও উচ্চ শিক্ষার হার সীমিত।
ধর্ম: তিন ধর্মাবলম্বী বসবাসকারী রয়েছে। ২২টি মসজিদ, ৫টি মন্দির, ১৮টি ঈদগাহ ময়দান ও ৬টি শ্মশান ঘাট এবং কবর স্থান রয়েছে।

কৃষি: 
চাষ যোগ্য মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১১৫০ হেক্টর। প্রধান ফসল ধান। এ ছাড়াও বিভিন্ন শাক-সবজি ও মাছ চাষ করা হয়। মোট ৯০০ হেক্টর জমিতে ৪,৫০০ মে:টন ধান উৎপাদিত হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত ৯৪ হাজার মোন ধান আমদানি করতে হয়। ৩০০ বিঘা জমিতে সবজি উৎপাদিত হয়। ফসলের এই প্রাচুর্যের মধ্যেও স্থানীয় কৃষকদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে শস্য আমদানি করতে হয়।

বনায়ন: ইউপি ৪ কিঃ মিঃ, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের  ৬ কিঃ মিঃ এবং এনজিও ৫ কিঃ মিঃ মিলে সর্বমোট ১৫ কিঃ মিঃ রাস্তা বনায়ন করা হয়েছে।

পশু সম্পদ: ইউনিয়নের গবাদি পশু সম্পদ তেমন উল্লেখ যোগ্য নয়। এ সংক্রন্ত জ্ঞানের স্বল্পতর কারণে বাণিজ্যিক ভাবে পশু সম্পদ পাললে আগ্রহ কম। অবকাঠামোগত সুবিধা ও সচেতনতার অভাব ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় পশু সম্পদ পালন তেমন চোখে পড়ে না।

মাছ চাষ: এখানে ৩,০০০ একর জমি মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়। উৎপাদিত মাছ থেকে ২৭০০ মন মাছ পাওয়া যায় এবং ২৬৪০ মন মাছ বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২ লক্ষ টাকা।

সেচ ও পানি সম্পদ: সেচ কাজে পাম্প ও স্যালো মেশিনের প্রচলন রয়েছে। ৩টি গভীর নলকূপ ও ১১০৬টি অগভীর নলকূপ ব্যবহার করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচপাম্প ব্যবহৃত হয় ১২টি।
জনস্বাস্থ্য: লোক সংখ্যা ও নানাবিধ সুবিধা বিচার বিবেচনার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে ১টি এবং ডাক্তার আছে ৮ জন (গ্রাম্য ডাক্তার) ৭টি গ্রামীণ ডিসপেনসারী আছে। সাধারণত শিশুদের মাঝে ডায়রিয়া, আমাশয়, হাম ইত্যাদি রোগের প্রাদূর্ভাব বেশী। এখানে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে একটু বেশি।